বল হে সার্বভৌম শক্তির মালিক আল্লাহ,তুমি যাহাকে ইচ্ছা ক্ষমতা দান কর,যাহার নিকট হইতে ইচ্ছা ক্ষমতা কাড়িয়া লও,যাহাকে ইচ্ছা তুমি পরাক্রমশালী কর আর যাহাকে ইচ্ছা হীন কর,কল্যাণ তোমার হাতেই;তুমি সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান।তুমি রাত্রিকে দিবসে পরিণত কর এবং দিবসকে রাত্রে পরিণত কর,তুমিই মৃতকে জীবিত এবং জীবিতকে মৃত কর,তুমি যাহাকে ইচ্ছা অপরিমিত জীবন উপকরণ দান কর। -(সূরা আলে ইমরান-২৬-২৭)
Saturday, 28 May 2016
Saturday, 14 May 2016
ঈমান
আল্লাহ তায়ালা শস্যবীজ ও আঁটি অনঙ্কুরিত করেন,তিনিই প্রাণহীন হইতে জীবন্তকে নিগর্ত করেন এবং জীবন্ত হইতে প্রাণহীনকে নিগর্ত করেন,এই তো আল্লাহ,কাজেই তোমরা কোথায় ফিরিয়া যাইতেছ?তিনিই ঊষার উন্মেষ ঘটান,তিনিই বিশ্রামের জন্য রাত্রি এবং গণনার জন্য সূর্য ও চাঁদ সৃষ্টি করিয়াছেন,এই সবই পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞের নিরুপণ।তিনিই তোমাদের জন্য নক্ষত্র সৃষ্টি করিয়াছেন,যেন তা দ্বারা স্থলেরও সমুদ্রের অন্ধকারে তোমরা পথ পাও;জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য আমি নিদশর্ন বিশদভাবে বিবৃত করিয়াছি।তিনিই আকাশ হইতে বারি বষর্ণ করেন,অতঃপর তাহা দ্বারা আমি সকল প্রকার উদ্ভিদের চারা উদগম করি,তারপর তাহা হইতে সবুজ পাতা উদগত করি,পরে উহা হইতে ঘন সন্নিবিষ্ট শষ্য দানা উৎপাদন করি এবং খেজুর বৃক্ষের মাথি হইতে ঝুলন্ত কাঁদি নিগর্ত করি আর আঙ্গুরের উদ্যান সৃষ্টি করি এবং জয়তুন এবং দাড়িম্বও। ইহারা একে অন্যের অদৃশ এবং বিশদৃশ। লক্ষ্য কর,উহার ফলের প্রতি যখন উহা ফলবান হয় এবং উহার পরিপক্বতাপ্রাপ্তির প্রতি,মোমেন সম্প্রদায়ের জন্য ইহাতে অবশ্য নিদশর্ন রহিয়াছে। -( সূরা আনআম, আয়াত ৯৫-৯৯ )
Sunday, 8 May 2016
অদৃশ্য বিষয়সমূহের প্রতি ঈমান
সর্বশক্তিমান আল্লাহ তায়ালার উপর,এবং সমগ্র অদৃশ্য বিষয়ের উপর ঈমান আনা হযরত মোহাম্মদ(সঃ)যাহা কিছু বলিয়াছেন সেই সব না দেখিয়া বিশ্বাস করা মানিয়া লওয়া এবং রাসূল(সঃ)-এর দেওয়া সংবাদ বিশ্বাস করিয়া মানুষের অস্থায়ী জীবনের স্বাদ আহলাদ ও প্রত্যক্ষ দেখা ও বস্তুুগত অভিজ্ঞতা পরিত্যাগ করা।
Thursday, 5 May 2016
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস(রাঃ)
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস(রাঃ) বলেন,রাসূল(সঃ) কে আমি একথা বলিতে শুনিয়াছি,কেয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা আমার উম্মতের মধ্যে এক ব্যক্তিকে বাছাই করিয়া সমগ্র সৃষ্টির সামনে উপস্থিত করিবেন। তারপর তাহার আমলের ৯৯ টি দফতর খোলা হইবে। প্রতিটি দফতর হইবে দৃষ্টি সীমা পযর্ন্ত বিস্তৃত। তারপর সেই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করা হইবে,তুমি কি এই সব আমলের মধ্য হইতে কোন আমল অস্বীকার কর? আমল লেখার কাজে নিয়োজিত ফেরেশ্তাগন কি তোমার উপর কোন প্রকার জুলুম করিয়াছে? সে বলিবে,না; জুলুম করে নাই,সঠিক লিখিয়াছে। আল্লাহ তায়ায়া তখন জিজ্ঞাসা করিবেন, এত সব দুস্কর্য তুমি যে করিয়াছ, এ সম্পর্কে কি তোমার কোন ওজর আছে? সে বলিবে, জ্বিনা কোন ওজর নাই। আল্লাহ তায়ালা তখন বলিবেন,তোমার একটি নেকী আমার নিকট আছে। আজ তোমার উপর কোন প্রকার জুলুম করা হইবে না। তারপর আল্লাহ তায়ালা কাগজের একটি টুকরা বাহির করিবেন। সেই কাগজে লিখিত থাকিবে- আশহাদু আল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মোহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু। আল্লাহ তায়ালা বলিবেন,যাও; ইহা ওজন করিয়া লও। সে বলিবে,হে আল্লাহ! এত বড় বড় সকল দফতরের মোকাবিলায় এই কাগজের টুকরা কি কাজে আসিবে? আল্লাহ তায়ালা বলিবেন, তোমার উপর কোন জুলুম করা হইবে না। তারপর সকল দফতর এক পাল্লায় এবং কাগজের সেই টুকরো এক পাল্লায় রাখা হইবে।সেই কাগজের টুকরা অন্য সকল দফতরের চেয়ে ভারি হইবে। ৯৯টি দফতরের পাল্লা উড়িতে থাকিবে। আল্লাহর নামের মোকাবিলায় কোন জিনিস ওজনই রাখে না।
-( তিরমিজি)
-( তিরমিজি)
Saturday, 23 April 2016
হযরত আনাস(রাঃ)
হযরত আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূ্ল (সঃ) কে আমি বলিতে শুনিয়াছি, কেয়ামত যখন অনুষ্ঠিত হইবে তখন আমাকে সুপারিশ করার অনুমতি দেওয়া হইবে। আমি আরজ করিব, হে আমার প্রতিপালক, যাহার অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণ ঈমান রহিয়াছে তাহাকেও জান্নাতে প্রবেশ করাইয়া দিন। তারপর এই রকম সবাই জান্নাতে প্রবেশ করিবে। তারপর আমি আবেদন করিব, এই রকম সকলকেও জান্নাতে প্রবেশ করাইয়া দিন যাহাদের অন্তরে যৎসামান্য ঈমান রহিয়াছে।
Monday, 18 April 2016
হযরত ইবনে শিমাছা মাহরি।
হযরত ইবনে শিমাছা মাহরি বলেন, আমরা আমর ইবনুল আস (রাঃ)-এর মৃত্যুর সময় তাঁহার নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি দেওয়ালের দিকে ফিরিয়া দীর্ঘ সময় পযর্ন্ত কাঁদিতেছিলেন। তাঁহার পুত্র পিতাকে সান্ত্বনা দিয়া বলিলেন, হে আব্বাজান! রাসূল (সঃ) কি আপনাকে অমুক সুসংবাদ দেন নাই? একথা শুনিয়া হযরত আমর (রাঃ)পুত্রের দিকে মুখ ফিরাইয়া বলিলেন, সবচেয়ে উত্তম জিনিস যাহা তৈয়ার করিয়াছি তাহা হইতেছে একথার সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নাই এবং হযরত মোহাম্মদ (সঃ) আল্লাহর রাসূল। আমার জীবনে ৩টি যুগ অতিবাহিত হইয়াছে। এক যুগ এমন ছিল যে, আমি ছিলাম রাসূলের চরম দুশমন সেই সময় আমি রাসূল (সঃ) কে হত্যা করার জন্য সুযোগসন্ধানী ছিলাম। ইহা আমার জীবনের সবচেয়ে নিকৃষ্ট যুগ। যদি সেই অবস্থায় আমি মারা যাইতাম তবে সন্দেহ নাই, আমি দোযখী হইতাম। তারপর মহান আল্লাহ আমার অন্তরে ইসলামের আলো জ্বালাইয়া দিলেন। রাসূল (সঃ) এর নিকট গিয়া আমি বলিলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার প্রতি আপনার হাত বাড়াইয়া দিন, আমি আপনার হাতে বাইয়াত করিব। রাসূল (সঃ) হাত বাড়াইয়া দিলে আমি নিজের হাত টানিয়া লইলাম। তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, হে আমর! কি ব্যাপার? আমি বলিলাম, আমি কিছু শর্ত আরোপ করিতে চাই। তিনি বলিলেন, কি সেই শর্ত? আমি বলিলাম, আমার সকল পাপ যেন মাফ হইয়া যায়। রাসূল (সঃ) বলিলেন, আমর তুমি কি জান না, ইসলাম গ্রহণ করিলে কুফুরী জীবনের সকল পাপ মার্জনা হইয়া যায়। হিজরত ও পূর্বেকার সকল পাপ মার্জনা করায়। হজ্ব ও পূর্বেকার সকল পাপ ক্ষমা করিয়া দেয়। ইহা ছিল সেই যুগ যখন রাসূল (সঃ)-এর চেয়ে অধিক সন্মানিত ও মর্যাদাসম্পন্ন মানুষ আমার নিকট অন্য কেহ ছিল না। তাহার বুজুর্গির কারনে তাঁহার প্রতি কখনো পরিপূর্ণ দৃষ্টিতে আমি তাকাইতে পারি নাই। আহা! যদি সেই অবস্থায় আমি মারা যাইতাম তবে আশা করা যায়,আমি জান্নাতী হইতাম। তারপর আমর কিছু জিনিসের মোতাওয়াল্লী ও জিম্মাদার হইয়াছি। আমি জানি না আমাদের অবস্থা সে সকল জিনিসের মধ্যে কেমন হইয়াছে। শোন, মৃত্যুর পর আমার জানাযার সহিত যেন কোন বিলাপকারিণী মহিলা না যায়। আমার জানাযার সহিত যেন আগুন না নেওয়া হয়। দাফন শেষ হওয়ার পর আমার কবরের উপর ভালোভাবে মাটি দিও। মাটি দেওয়ার পর আমার কবরের নিকট একটি উট জবাই করিয়া গোশত বন্টনের সময় পরিমান অপেক্ষা করিবে। তোমাদের কারনে আমার অন্তর সান্ত্বনা লাভ করিবে,আমি যেন বুঝিতে পারি আমি আমার প্রভর প্রেরিত ফেরেশতাদের প্রশ্নের কি উত্তর দিতেছি।
-( মুসলিম )
-( মুসলিম )
Sunday, 17 April 2016
বিষয়ভিত্তিক হাদীস
হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) হইতে বণির্ত আছে, রাসূল (সঃ) বলেন,ঈমানের সত্তরটির অধিক শাখা রহিয়াছে।এইসব শাখার মধ্যে সবচেয়ে উত্তম শাখা হইতেছে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু বলা এবং সবচেয়ে নীচু শাখা হইতেছে রাস্তা হইতে কষ্টদায়ক জিনিস সরাইয়া দেওয়া। ইহা ছাড়া লজ্জা ঈমানের একটি বিশেষশাখা। -(মুসলিম)
Subscribe to:
Posts (Atom)